অর্পণ দাস:- হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানার অনন্তপুরে অমরনাথ সিদ্ধেশ্বরী ডাইং মিল। স্থানীয় মানুষজনের কাছে পরিচিত 'গেঞ্জি কারখানা' নামে। এই কারখানাটির নামে এলাকাবাসীর অভিযোগ বিস্তর। কি সেই অভিযোগ?
অনন্তপুরের গেঞ্জি কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরেই রূপনারায়ণের জলে দূষণ ছড়িয়ে মাছের মৃত্যু ঘটাচ্ছে।
শুধু তাই নয়, অনন্তপুর ছাড়াও আঁটিলাপাড়া, নাউড়িপাড়া, ঝুমঝুমি, পলতাবেড় গ্রামের চাষিদের প্রায় হাজার বিঘে জমিতে এই রাসায়নিক দূষণের কারণে ফলন নেই। ।
কয়েকমাস আগে উলুবেড়িয়ার সংসদ সাজদা আহমেদ এসে মিলটির রাজনৈতিক মেরুকরণ করে গিয়েছেন। কান পাতলেই শোনা যায়, শাসকের নেতা-কর্মীদের নাকি পকেট ভরেছে কারখানা মালিকের টাকায়। । তাই মানুষের প্রতিবাদেও প্রশাসন চোখে ঠুলি এঁটেছে।
অনন্তপুরের এই সিদ্ধেশ্বরী ডাইং মিলের রাসায়নিক বর্জ্য জল খাল দিয়ে ঢুকে সেচের জলের সঙ্গে মিশছে। চাষের মাঠে ঢুকে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে দিচ্ছে।
অপরদিকে এই কারখানার বর্জ্য এলাকার মানুষের ব্যবহারের জলে মিশছে। ফলে প্রায়শই ঘরে ঘরে চর্ম রোগে ভুগতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের।
আরও অভিযোগ, প্রতিদিন ৫-৬ টি পাম্পের সাহায্যে প্রায় গ্যালন গ্যালন ভূগর্ভস্থ জল তুলে সেই জলে রং মিশিয়ে কাপড় রং করা হয় এই কারখানাটিতে। তারপর সেই বর্জ্য রং পাইপ ও ড্রেনের সাহায্য শোধন না করেই রূপনারায়ন নদী সংলগ্ন খালে ফেলা হয়। সেই রাসায়নিক মিশ্রিত বিষাক্ত জল খাল হয়ে পুকুর, চাষের জমিতে মিশছে প্রতিদিন। অনন্তপুর গ্রামের এই কারখানাটি সাব মার্শাল পাম্পের সাহায্যে বেআইনি ভাবে মাটি থেকে যে পরিমাণ জল তুলছে তাতে আগামীদিনে এলাকায় ভূগর্ভস্থ জল পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত এলাকার মানুষজন।
ছবি ও ভিডিও:- প্রতিবেদক।



No comments:
Post a Comment