News HowrahHTimes ডিজিটাল ডেস্ক:- সালটা ২০১৭,নেট দুনিয়ায় হঠাৎই একটা ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ল।ভিডিওটিতে দেখা গেল বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এর উর্দি পরিহিত একজন কনস্টেবল সেনা জওয়ানদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের প্রকৃতি ও খাবারের গুণমান নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন।
শুধু এই অভিযোগই নয়, সেনা জওয়ানদের উপরে উচ্চ পদস্থ অফিসারদের মানসিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানোর কথাও সামনে আনেন তিনি ।
ব্যাস, সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ !
চাকরির শর্তাবলী ও বিধি ভঙ্গের কারণে বিএসএফের পক্ষ থেকে তাঁকে বহিস্কৃত করা হল।
মনে পড়ে তাঁকে ? তিনি তেজ বাহাদুর যাদব।
২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও মারফত তার পরিচিতি ঘটে।আলোচনার শীর্ষে আসেন ওই সময় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সে কর্মরত জওয়ান এই তেজ বাহাদুর যাদব।
এবার আর একটু পিছিয়ে যান।
সালটা ২০১৪, ৯ এপ্রিল । ছত্তিশগড়ে ২০৬ নং কোবরা ব্যাটেলিওন জওয়ানদের সঙ্গে নকশালবাদী মাওবাদিদের মুখমুখি সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় ৩ জওয়ান নিহত হন । আহত হন আরও ৫ জওয়ান। যাদের সময় নষ্ট না করে তক্ষনাৎ হেলিকপটারে রাইপুরের রামকৃষ্ণ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিত্সাধীন আহত জওয়ানদের মধ্যে ছিলেন খরগ্রাম, মুর্শিদাবাদের সুজয় মণ্ডল (২৭) । যাকে ১১ এপ্রিল ওই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে কমান্ড জওয়ান সুজয় মন্ডল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সাংবাদিকদের কি জানিয়েছিলেন সুজয়? ছত্তিশগড়ে মাওবাদিদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিকল্পনায় ঠিক কি কি গলদ ছিল এবং আহত জওয়ানদের চিকিৎসার মধ্যে কিকি খামতি ছিল।
সেই সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ! ঠিক যেমন তেজ বাহাদুর কল্পনা করতে পারেননি তাঁর একটা ফেসবুক পোস্ট তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনে কতটা অন্ধকার ডেকে আনতে চলেছে ঠিক তেমনই সুজয় মন্ডল তখনও জানতেন না তাঁর এই সত্যিটা সবার সামনে আসাতে তাঁর জন্য কী অপেক্ষা করছে!
এরপর বাড়ি বা কর্মস্থলে না ফিরে তাঁর ঠাঁই হয় জেলে। যেখানে তাঁর উপরে চলে অকথ্য অত্যাচার! কেড়ে নেওয়া হয় সঙ্গে থাকা তার মোবাইল ফোনও ।এত কিছুর পর যখন সেই সেনা জওয়ান কে ছাড়া হয় তাঁর হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ৩ মাস সাসপেন্সনের চিঠি!
চমকের এখানেই শেষ নয়! বাড়ি থেকে ৩ মাস পর কমান্ডো জওয়ান সুজয় তাঁর কর্মস্থলে গেলে তাঁকে সেখানে জানানো হয়, তাঁর বাড়িতে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘ডিসমিস লেটার’ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একদিন দেশের জন্য লড়াই করতেন যে জওয়ান , বিগত ৫ বছর ধরে ন্যায় পাওয়ার জন্য লড়াই চালাতে হচ্ছে তাকে !
জওয়ান সুজয় মণ্ডল 'হাওড়া টাইমস' কে জানালেন,
"সেদিন তাঁকে এবং তার অসুস্থ সহকর্মীদের ঠিকঠাক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়নি। সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁকে বাইরের হসপিটালেও বেশ কিছুদিন চিকিৎসা করাতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমাদের ব্যাটেলিয়নে সিস্টেম ঠিক করাটা অন্ততই প্রয়োজন ছিল। যারা নতুন জয়েন্ট করছিল তাদেরকে পুরোপুরি ট্রেনিং না দিয়েই যুদ্ধের ময়দানে এগিয়ে দেওয়া হত। উল্টে পিছন থেকে সেরকম কোনও ব্যাকআপও দেওয়া হত না।"
তাঁর মতে, পুরো সিস্টেমটাই গড়বড়ে। কারণ সিস্টেম ঠিক থাকলে সেদিন এই দুর্ঘটনা হতই না। ঠিক যেমনটা তিনি মনে করেন, পুলওয়ামা কান্ডও এই গলদ সিস্টেমের পরিণাম । যার যেরে প্রাণ যায় বাবলু সাঁতরাদের মত জওয়ানদের।
সুজয় নিজে (ডিআইজি, আইজি, ডিজি) উচ্চপদস্থ অফিসারদের কাছে দরখাস্তও জমা দেন। কিন্তু তাতেও তিনি কোন ন্যায় বিচার পাননি বলেই দাবি। তারপরই তিনি কিছুটা বাধ্য হয়েই সংবাদ মাধ্যমের দারস্থ হন। আর আজও তিনি ৩ বছর ধরে লড়াই করে যাচ্ছেন সেই অন্যায়ের বিচার পাওয়ার জন্য।
তেজ বাহাদুরের কথা দেশবাসী জানতে পারলেও সুজয় মন্ডলের খবরটা সেভাবে খবরের শিরোনামে আসেনি আজও, অথচ তেজ বাহাদুরের অনেক আগেই সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদটা করেছিলেন এক বাঙালি যুবক ই।
বহিস্কৃত বিএসএফ জওয়ান তেজ বাহাদুর যাদব এবং কমান্ডো জওয়ান সুজয় মন্ডল প্রতিবাদে সরব বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের সাফ কথা, " বর্তমান সরকার সেনাদের নামে ভোট চাইলেও তাদের জন্য কিছুই করেনি ।
যারাঁ দেশের জন্য লড়াই করেন,প্রাণ বাজি রাখেন তাদের প্রতি আরেকটু বেশি সংবেদনশীল হওয়াটাই সরকারের কাছে কাম্য।একজন সেনা জওয়ানকে যখন প্রধানমন্ত্রী 'র বিরুদ্ধে ভোটের ময়দানে লড়াইয়ে নামতে হয় তখন বুঝতে অসুবিধা হয়না সিস্টেমের গলদটা।আর এই সিস্টেমের বিরুদ্ধেই তো লড়াইয়ে নেমেছেন সুজয়, তেজবাহাদুররা!





No comments:
Post a Comment