Monday, May 13, 2019

শতবর্ষে উলুবেড়িয়ার আনন্দময়ী কালীমাতা ঠাকুরাণীর মন্দির।


News H Times ওয়েব ডেস্ক:-  শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালীমাতা সংস্থার, শততম প্রতিষ্ঠা দিবস এর উদযাপন  উপলক্ষে পুণ্যতোয়া গঙ্গায় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ  ও সন্ধ্যারতির মধ্য দিয়ে শুভ সূচনা  হল ।এই বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ  ও সন্ধ্যারতি করতে বেনারস থেকে এসেছেন ২১ জন বৈদিক পন্ডিত।

এই শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের শুভারম্ভে  উপস্থিত ছিলেন আদ্যাপীঠের ব্রহ্মচারী মুরাল ভাই ও বেলুড় মঠের  সুভাষ মহারাজ।

পলাশ পোড়েল :-      উলুবেড়িয়া (মৌজা - ০৫১১১১০৯) শহরের সবচেয়ে রমনীয় ও মনোরম স্থান হল হুগলি নদীর তীরে অবস্হিত এই মন্দির । "উলুবেড়িয়া কালী মন্দির " নামে পরিচিত পেলেও প্রকৃতপক্ষে উদ্যোক্তাদের দেওয়া মন্দিরের নাম হল " আনন্দময়ী কালীমাতা মন্দির " । হুগলি নদীর ( গঙ্গা ) ধারে নয় চূড়া বিশিষ্ট দৃষ্টি নন্দন এই নবরত্ন মন্দির উলুবেড়িয়ার অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান ।

             লিপিফলক অনুসারে এটি ১৩২৭ বঙ্গাব্দে ১৭ বৈশাখ নির্মিত । মহিষাদল থানার রামবাগ এলাকার চন্দ্রমোহন মাইতি এটি নির্মাণ করেন । মন্দিরের অভ্যন্তরে শ্বেতপাথরের বেদির ওপর দক্ষিণমুখী চার হাত দক্ষিণা কালীর আনন্দময়ী মাতৃমূর্তি প্রতিষ্ঠিত।
পাথরের কালীমূর্তির পদতলে শ্বেতপাথরের মহাদেব শবাসনে শায়িত রয়েছেন । অপূর্ব মূর্তি । এই মাতৃমূর্তির ভাস্করের নাম - গোকুল বিহারী ভাস্কর ( কাটোয়া , বর্ধমান ) । আন্দুলের রাজকুমার শৈলেন্দ্রনাথ মিত্র মন্দির নির্মাণের জন্য ১ বিঘা ৫ কাঠা জমি দান করেছিলেন । যাঁদের ভূমিকায় মন্দির গড়ে ওঠে তাঁরা হলেন যতীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় , শশীজীবন সেন , শরৎচন্দ্র ধাড়া , নারায়ণ চন্দ্র মান্না , আন্দুল রাজকুমার শৈলেন্দ্রনাথ মিত্র প্রমুখ । মাতৃবিগ্রহ দান করেছিলেন অবিনাশ চন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ধর্মশীলা পত্নী ভবতারিণী দেবী । এত বড় মন্দির নির্মাণে সাধারণ মানুষ প্রচুর অর্থ সাহায্য করেছিলেন । সমকালীন সময়েই অর্থ সাহায্য না করে আনন্দময়ী মন্দির সংলগ্ন কয়েকটি মন্দির নির্মাণ করে দেন কয়েকজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি । যেমন শিব মন্দির নির্মাণ করে দেন অবিনাশ চন্দ্র মুখার্জী ( ১৯২০সালে ) , রাধাগোবিন্দ মন্দির নির্মাণ করে দেন বাগাণ্ডার দ্বারিক কয়াল (১৯২১) , সাবিত্রী মন্দির নির্মাণ করে দেন উলুবেড়িয়ার কালোচন্দ্র চন্দ্র (১৯২৩) । আনন্দময়ীর মন্দিরে নিত্য পূজা হয় । বিশেষ দিনে বিশেষ পূজাও হয়ে থাকে । মন্দিরের প্রথম পুরোহিত ছিলেন রাজেন্দ্রনাথ ঘোষাল আর বর্তমান পুরোহিত হলেন মনোরঞ্জন ও চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় । ভোগ দেওয়া হয় এবং নিত্য আরতি হয় ।
                 আজ বছরভর সুনামের সঙ্গে নানা উৎসবের আয়োজন করে উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধির পথে উলুবেড়িয়া কালীবাড়ী।



     
 বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন ৮৯১০৪৬৩১১৭

No comments:

Post a Comment

হাওড়া শ্যামপুরে বাছরী যুব সংঘে মা সাজবেন রেশমী সুতোর সাজে

অর্পণ দাস:  হাওড়া গ্রামীণ অঞ্চলের শ্যামপুর থানার বাছরী গ্রামের "বাছরী যুব সংঘের" সার্বজনীন দুর্গোৎসবের এবছর ৫৩ তম বর্ষ । বিগত...