,News H Times ওয়েব ডেস্ক:- নিজের উচ্চতা ছিল মাত্র ৪ফুটের কিছু বেশি কিন্তু এই সামান্য উচ্চতা নিয়েই তিনি বাঙালিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন এক অন্য উচ্চতায়। সেই মানুষটির নাম মনোহর আইচ। বিশ্বশ্রী নামেই যিনি সারা দুনিয়ায় পরিচিত।
মনোহর আইচ জন্মেছিলেন ১৭ ই মার্চ ১৯১৩ তারিখে অধুনা বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার ধামতি নামক একটি প্রত্যন্ত গ্রামে। কিন্তু আর পাঁচজন বাঙ্গালীর ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে, ঠিক তেমনই মনোহর আইচের পরিবারও দেশভাগ আর সাম্প্রদায়িক হানাহানির শিকার হয়ে চলে আসেন কলকাতার কাছে দমদমের নাগেরবাজারে। হয়ে যান একজন ভারতীয় নাগরিক।
পড়ালেখা করতেন ঢাকার জুবিলি স্কুলে। একবার সে স্কুলে জাদু দেখাতে আসেন বিখ্যাত জাদুশিল্পী পি সি সরকার। মনোহর আইচের শরীর চর্চা ও শরীর নির্ভর ক্রিয়াদি দেখে তার ভালো লাগে। তিনি তার দলে নিয়ে নেন তাকে।
মনোহর তখন পি সি সরকারের সাথে বিভিন্ন প্রোগ্রামে তার ক্রীড়াকৌশল দেখাতে শুরু করেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল:
দাঁত দিয়ে ইস্পাত বাঁকানো,
গলার সাহায্যে বল্লম আনমিত করা,
তরবারির উপর পেট রেখে শুয়ে থাকা,
দেড় হাজার পাতার বই নিমিষে ছিঁড়ে ফেলা ইত্যাদি জটিল সব খেলা।
মাত্র ১২ বছর বয়সে কালাজ্বর এর অতর্কিত আক্রমণ থেকে তার স্বাস্থ্য ভেঙ্গে গিয়েছিল। তবে তিনি নাকি শারীরিক ফিটনেস ব্যায়াম দিয়ে সেই শক্তি ফিরে পেয়েছিলেন। তিনি যেমন শরীরচর্চার ব্যায়াম শুরু করেছিলেন ছোট বয়সে, তেমনি তিনি তা ধরে রেখেছিলেন আমৃত্যু ।
তিনি তিনবার এশিয়ান গেমস বডিবিলডারস জিতে স্বর্ণপদক পেয়ে ছিলেন। আর মানুষটির উচ্চতা ছিল শুধুমাত্র ৪ফুট ১১ইঞ্চি, মানে ১.৫০ মিটার। তিনি “পকেট হারকিউলেস” নামেও পরিচিতি।
১৯৪৩ সালে তিনি ভারতীয় বিমান বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। ভারতের ব্রিটিশ রয়াল এয়ার ফোর্সে যখন তিনি যোগ দিয়েছিলেন তখন ভারতে ব্রিটিশ শাসন চলছে। এয়ার ফোর্সের একজন অফিসার ছিলেন রিউব মার্টিন। মনোহরের শরীরচর্চা প্রীতি দেখে তিনি তাকে উৎসাহ দেন এবং আধুনিক অনেক শরীরচর্চা পদ্ধতির সাথে তাকে পরিচিত করান। মনোহর সেই সময়ে শরীরচর্চা তথা ওয়েট ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে নিজের দেহকে এমনভাবে নির্মাণ করেন যে রয়াল ফোর্সের অন্য সবার প্রশংসার পাত্র হয়ে উঠেন।
কিন্তু একদিন এক অফিসারের সাথে তার তর্ক শুরু হয়। তর্কের বিষয় ছিল ব্রিটিশ শাসকদের ভারতে প্রজাদের উপর নির্যাতন-শোষণ নিয়ে। সেই অফিসার ভারত সম্পর্কে তাচ্ছিল্যপূর্ণ এক মন্তব্য করে বসেন। মনোহর তার রাগ সামলে রাখতে পারেন নি। কষে এক চড় বসিয়ে দেন তাকে। এই কাজের জন্য মনোহরকে জেলে ঢোকানো হয়। দেশ স্বাধীন হলে ছাড়া পাান মনোহর আইচ। ১৯৫০ সালে, মনোহর আইচ জিতেছিলেন মিস্টার হারকিউলেস প্রতিযোগিতা। ১৯৫১ সালে তিনি মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি মিস্টার ইউনিভার্স খেতাব জেতেন। ১৯৫৫ সালে তিনি মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার দাঁড়িয়ে তৃতীয় এবং ১৯৬০ সালে তিনি ৪৭ বৎসর বয়সে দাঁড়িয়ে মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার চতুর্থ স্থান পেয়েছিলেন।দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে ২০১৬ সালের ৫ই জুন বার্ধক্য জনিত রোগে প্রয়াত হন বিশ্বশ্রী মনোহর আইচ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০৩ বছর।





No comments:
Post a Comment