Wednesday, May 29, 2019

পর্বতারোহীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে নেপাল সরকার

রণতোষ মুখোপাধ্যায়:-
শীতে আলিপুর চিড়িয়াখানায় যেমন লাইন লাগে তেমনই এবছর মে জুন মাসে এভারেস্টের চূড়ায় চড়ার ও ভিড় লেগেছে।এবছর পাঁচশোরও বেশি মানুষ এভারেস্ট অভিযানে পা বাড়িয়েছেন।অবস্থা যে দিকে গড়াচ্ছে তাতে পরের বছর  নেপাল সরকার যদি এভারেস্টে হানিমুন প্যাকেজ ঘোষণা করে আশ্চর্য হবেন না কেউ।

এত গেল প্রদীপের আলোর দিকটা,আর অন্ধকার!
এভারেস্ট জয় করতে গিয়ে ইতোমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন দেশ বিদেশের ১১ জন।আর এই অতিরিক্ত ভিড়ের কারনে স্বপ্নের কাছাকাছি এসেও এভারেস্ট শীর্ষে পৌঁছানোর স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে বহু প্রশিক্ষিত
পর্বতারোহীর। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা বা শারীরিক অক্ষমতার কারণে যদি অভিযান সফল না হয় তা মেনে নেওয়া যায় কিন্তু শুধুমাত্র জ্যামের কারণে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং ফলস্বরূপ অক্সিজেনের অভাবে ফিরে আসতে বাধ্য হওটা মেনে নিতে পারছেন না এবারের মত স্বপ্ন (এভারেস্ট শিখরে আরোহণ) শেষ হওয়া অনেক অভিযাত্রীই।


আর নেপাল সরকার? এভারেস্ট এখন তাদের কাছে সোনার ডিম দেওয়া মুরগি।তাই এভারেস্ট দেখিয়ে পাকা কারবারীর মতো তারা অর্থ কামাতে ব্যস্ত। ৮০০০মিটার উচ্চতায় চড়ার কার প্রশিক্ষণ আছে কার নেই ওসব খতিয়ে দেখার বালাই নেই।ফেল কড়ি মাখো তেল থুড়ি চড় এভারেস্ট।আর এই ঢিলেঢালা
ব্যবস্থায় যখন এভারেস্টে চড়ার ঢল নেমেছে তখন চুটিয়ে ফায়দা তুলছে বিমা সংস্থাগুলো। আবেদন পত্র জমা দিলেই তারা বিমার প্রয়োজনীয় অর্থ নিয়ে নিচ্ছে আর সামান্য অসুস্থতা দেখলেই অভিযাত্রীদের নামিয়ে নিয়ে আসছে। এছাড়াও উপরে ওঠার জন্য ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে দূর্নীতি তো আছেই।
                       ছবিগুলি সংগৃহীত

নেপাল সরকারের এই অরাজকতা নিয়ে আমরা জানতে চেয়েছিলাম হাওড়ার বিশিষ্ট পর্বতারোহী এভারেস্টজয়ী মলয় মুখোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর মতে"নেপাল সরকারের অবিলম্বে এভারেস্টে চড়ার একটা মাপকাঠি বা কিছু নিয়ম মেনে এগনো। শুধুমাত্র টাকা থাকলেই তাকে এভারেস্টে চড়ার পারমিট দিয়ে দেওয়া,সে অন্ততঃ ছয় বা সাত হাজার মিটার ক্লাইম্ব করেছে কিনা তা না দেখেই যাকে তাকে এভারেস্টে চড়ার ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছে নেপাল সরকার।এই অরাজকতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।নচেৎ বেড়েই চলবে এই মৃত্যু মিছিল।আর আমি নিজে একজন এভারেস্ট জয়ী হয়েও বলছি এভারেস্ট সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হতে পারে কিন্তু এভারেস্ট জয় সর্বোচ্চ মাপকাঠি কখন ই নয়"।

কি বলছে নেপাল সরকার? তাদের সাফাই, অভিযাত্রীরা স্বেচ্ছায় এভারেস্ট জয় করতে আসেন তাই এই মৃত্যু মিছিলের জন্য তারা দায়ী নয়!



No comments:

Post a Comment

হাওড়া শ্যামপুরে বাছরী যুব সংঘে মা সাজবেন রেশমী সুতোর সাজে

অর্পণ দাস:  হাওড়া গ্রামীণ অঞ্চলের শ্যামপুর থানার বাছরী গ্রামের "বাছরী যুব সংঘের" সার্বজনীন দুর্গোৎসবের এবছর ৫৩ তম বর্ষ । বিগত...