Monday, May 6, 2019

ভোট দিলেন দেশের প্রথম নির্বাচনের ভোটার হাওড়ার রণেন্দ্রনাথ

 NHTওয়েব ডেস্ক:- ২৮ এপ্রিল বয়স ছুঁয়েছে  ১০১ বছরের মাইলস্টোন। সেই ১৯৫২ সালে দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন থেকেই ভোট দিয়ে আসছেন তিনি। গতকাল রাত থেকেও ছিল সেই ১৯৫২র উদ্দীপনা ,ভোর থেকেই মুখিয়ে ছিলেন কখন বুথে পৌঁছে  নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অবশেষে তিনি ভোট দিলেন।তিনি হাওড়া সালকিয়ার রণেন্দ্রনাথ সিংহ।

কয়েক পুরুষ ধরেই রণেন্দ্রনাথ বাবুদের বাস সালকিয়ায়। এখন এটি উত্তর হাওড়ার ১০ নম্বর ওয়ার্ড এর অন্তর্গত হলেও প্রথম নির্বাচনের সময় এটা ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছিল বলে নিজেই জানান  রণেন্দ্রনাথবাবু। উল্লেখ্য, স্বদেশী করার সময় হাওড়া সঙ্ঘের হয়ে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেছেন  রণেন্দ্রনাথ।  খুব কাছ থেকে দেখার    সৌভাগ্য হয়েছিল নেতাজি,  গান্ধীজি কে  দেখার।
তাঁর মনে পড়ে যায় ,যেবার নেতাজি সভাপতি র পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন, সেই সময় আচার্য কৃপালনীকে এই দায়িত্ব দেওয়ার কথা ওঠে,তখন কৃপালনী তার ভাষণে বলেছিলেন যেখানে বাংলার ছেলে এই দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন সেখানে বাংলার জামাই হয়ে এই দায়িত্ব নিতে আমি অক্ষম।


    প্রথম সাধারণ নির্বাচন থেকে আজকের ২০১৯ লোকসভার নির্বাচন-- কিভাবে দেখেন? উওরে শতায়ু পার করা     রণেন্দ্রনাথ   জানান,  তখনকার ও বর্তমান নির্বাচনের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। তখন ভোটদান ছিল একটা উৎসব। নতুন কিছু পাওয়ার স্বাদ। এখনকার মতো এত কাদা ছোড়াছুড়ি ছিলনা। বয়স শতবর্ষ পেরোলে কী হবে, স্মৃতি আজও আগের মতোই সতেজ। কথাপ্রসঙ্গে তিনি বউবাজার কেন্দ্রের নির্বাচনের উল্লেখ করেন। বলেন, সেই কেন্দ্রে সে'বার ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় ও ফরওয়ার্ড ব্লকের সত্যপ্রিয় ব্যানার্জি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় ছিল উভয় প্রার্থীর মধ্যে, এমনকি বিরোধীদের প্রতিও। এই প্রসঙ্গে সত্যপ্রিয়বাবু তাঁর ভাষণে যে ছড়া বলেছিলেন তার উল্লেখ করেন গড়গড়িয়ে, 'নিদানকালে বিধান রায়, নির্বাচনে নয়'। অর্থাৎ চিকিৎসার সময়ে বিধানচন্দ্র রায়ের প্রয়োজন, কিন্তু ভোটে নয়। কিংবা হাওড়ার প্রথম সাংসদ হাওড়া ময়দানের বাসিন্দা কংগ্রেসের সন্তোষ দত্ত বা তারপরেরবার কমিউনিস্ট মহম্মদ ইলিয়াস, এমনকি তারপরেরও আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির নাম বলে যান অনায়াস স্মৃতিচারণায়। 


  ১০১ এর লম্বা ইনিংসের রেকর্ড ছঁয়েও  নিজে এখনও খালি চোখে কাগজ পড়েন, নিজের কাজ নিজেই করেন  রণেন্দ্রনাথ। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্বন্ধেও বেশ ওয়াকিবহাল তিনি।
শতায়ু পেরিয়ে আসা  রণেন্দ্রনাথবাবুর বিশ্বাস যে বাংলাই  একদিন ভারতকে পথ দেখাবে। 


No comments:

Post a Comment

হাওড়া শ্যামপুরে বাছরী যুব সংঘে মা সাজবেন রেশমী সুতোর সাজে

অর্পণ দাস:  হাওড়া গ্রামীণ অঞ্চলের শ্যামপুর থানার বাছরী গ্রামের "বাছরী যুব সংঘের" সার্বজনীন দুর্গোৎসবের এবছর ৫৩ তম বর্ষ । বিগত...