রণতোষ মুখোপাধ্যায় :- ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এনআরএসের ইন্টার্ন পরিবহ মুখোপাধ্যায়৷ তাঁর মাথার অপারেশন যে সফল হয়েছিল তা চিকিৎসকেরা আগেই জানিয়েছিলেন৷
হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, দ্রুত সেরে উঠছেন তিনি। ঘটনার অভিঘাত কাটিয়ে উঠেছেন পরিবহ। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তাঁর ক্ষতের সেলাই (স্টিচ)কাটা হবে। তার পর ছুটি মিলবে হাসপাতাল থেকে।
হাসপাতালের পক্ষে চিকিৎসক প্রসেনজিৎ বর্ধন রায় জানান, পরিবহর মাথার’ ক্ষত সেরে উঠছে। তিনি স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করছেন। কথাও বলছেন স্বাভাবিক ভাবে।
পরিবহ সুস্থ হয়ে উঠছে এ খবর যেমন স্বস্তি দিয়েছে অপরদিকে কাজকর্ম র দিক থেকে অনেক বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে পরিবহ'র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনে।
ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, পরিবহ সম্মূস সুস্থ হয়ে গেলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে কি?
হৃষীকেশ কুমারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড
যাঁরা পরিবহর স্বাস্থ্য র খেয়াল রাখছেন ইতমধ্যেই জানিয়েদিয়েছেন ,এখনই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবেনা পরিবহকে । ঘটনার দিন রাতে এনআরএসে ঠিক কি হয়েছিল তা জানতে নীলরতনের আহত ছাত্র পরিবহকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিল পুলিশ।
ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সের রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধিকর্তা ডাঃ সুপর্ণ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পরিবহ বাকি জীবন সাঁতার কাটা ও গাড়ি চালাতে পারবে না। করলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিবহুল হবে। তিনি আরও জানান , পরিবহন দীর্ঘদিন আইটিইউতে থাকায় নিউমোনিয়া ছোবল বসিয়েছে তাঁর ফুসফুসে। অ্যান্টিবায়োটিক চলছে। চলছে ‘চেস্ট ফিজিওথেরাপি’। সংক্রমণ সারতে দিনকয়েক সময় লাগবে। সুপর্ণবাবু'র মতে, পরিবহের ‘লং টার্ম রিহ্যাব’ লাগবে। হাত-পায়ে জোর ফেরাতে একটু সময় লাগবে। ‘রিকন্ডিশনিং’ করাতে হবে। পরিবহ নিজে হাতে খাচ্ছেন বা প্রাথমিক বিপদ কেটে গিয়েছে - এটা যেমন সত্যি তেমনই এটাও কঠিন বাস্তব হাওড়ার ডোমজুড়ের ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা এক সম্ভাবনাময় ডাক্তারের পৃথিবীটা অনেক ছোট হয়ে গিয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, সাঁতার কাটা, গাড়ি চালানোর মতো ‘শখ’ পরিবহের অভিধান থেকে বাদ গিয়েছে। চড়া আলোও আর সহ্য হবে না। কারণ, যেভাবে করোটির হাড় ভেঙে ব্রেনের ভিতর ঢুকে গিয়েছে তাতে যে কোনও মুহূর্তে খিঁচুনি হতে পারে পরিবহের। এটা ঠেকাতে বেশ কিছুদিন ওকে মৃগীর ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই ধরনের ওষুধের বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। আচরণগত সমস্যা, লিভারের সমস্যা হতে পারে। কতদিন এই ওষুধগুলি পরিবহকে খেতে হবে, জানেন না তাঁর চিকিৎসকরাও।
আসলে এই ফ্রন্টাল লোবটাই মানুষের সাথে অন্যান্য পশুপাখির পার্থক্য গড়ে তোলে। মানুষের অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনা, দক্ষতা, তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া -এসমস্তকিছু এখান থেকেই পরিচালিত হয়।
তাই পরিবহ মুখোপাধ্যায় সুস্থ হচ্ছেন সুস্থ হবেনও এটা এই মুহূর্তে বলা গেলেও তিনি আগের মত স্বাভাবিক হবেন কিনা সেটার উত্তর একমাত্র দিতে পারবে সময়।






No comments:
Post a Comment