রণতোষ মুখোপাধ্যায়:- এখনও কাঞ্জনজঙ্ঘায় চার নম্বর ক্যাম্পের বেশ কিছুটা উপরে আটআহাজাররের ও বেশি উচ্চতায় তুষার শয্যায় শায়িত বাঙালি পর্বতারোহী কুন্তল কাঁড়ার এবং বিপ্লব বৈদ্য। তাঁদের মৃতদেহ নামিয়ে আনতে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কাঠমাণ্ডুতে পৌঁছেছে বাঙালি পর্বতারোহীদের একটি প্রতিনিধিদল।
তবে আট হাজারের বেশি উচ্চতায় থাকা কুন্তল-বিপ্লবকে উদ্ধার করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে দোলাচলে বাংলার পর্বতারোহী মহল। পর্বতারোহী বসন্ত সিংহরায় বলছেন, ‘‘বেঁচে থাকলে উদ্ধার করাটা তুলনায় সহজ হত। কিন্তু এক্ষেত্রে দু’টি দেহ নামাতে সাত-আট জন শেরপার প্রয়োজন হয়।’’ যদিও উদ্ধারকাজ নিয়ে আয়োজক সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন পর্বতারোহী মলয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ‘‘এই ওয়েদার উইন্ডোর মধ্যে ওদের (কুন্তল-বিপ্লব) নামিয়ে আনতে হবে। নইলে গোটা একটা বছর থমকে যাবে দেহ উদ্ধারের কাজ।যত সময় যাবে দেহ পাওয়ার আশা ততই তুষার শয্যার অতলে তলিয়ে যাবে।’
যদিও দেহ উদ্ধারে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার তবে কুন্তল-বিপ্লবের দেহ ক্যাম্প ফোরের উপরে থাকায় নতুন করে সেখানে শেরপা পাঠানো কতটা সম্ভব এবং আবহাওয়া কতটা অনুকূল থাকবে, সব কিছু নির্ভর করছে এই দুয়ের উপর।
কুন্তল এবং বিপ্লবের দেহ উদ্ধার অভিযান আর একবার উস্কে দিয়েছে ছন্দা গায়েনের স্মৃতি। ২০১৪ সালের ২০ মে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রধান শৃঙ্গ জয়ের পরে ইয়ালুংখাংয়ের পথে পা বাড়িয়ে বিপদে পড়েছিলেন পর্বতারোহী ছন্দা গায়েন। দুই শেরপাকে নিয়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। উদ্ধার করা যায়নি তার দেহ।
কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যু হল বিপ্লব এবং কুন্তলের? এজেন্সির দেওয়া তথ্য কিন্তু মিলছেনা ঐ দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা সামিট করা আরেক অভিযাত্রী নির্মল পুর্জার বয়ানে। কাঞ্চনজঙ্ঘা সফল ভাবে সামিট করে নেমে এসে সেদিনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নির্মল। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘সেদিন কাঞ্জনজঙ্ঘায় বিভিন্ন অভিযাত্রী দলের অন্তত ৫০ জন ছিলেন। কেউ একটু সাহায্য করলে কুন্তল-বিপ্লবকে হয়তো বাঁচানো যেত।’’কুন্তলদের সংস্থার বিরুদ্ধে ও তার প্রচ্ছন্ন অভিযোগ রয়েছে।
নির্মলের বয়ান অনুযায়ী গত ১৫ মে, অর্থাৎবুধবার সকালেই ক্যাম্প ফোর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা শিখরের উদ্দেশে পা বাড়িয়েছিল বাঙালি অভিযাত্রী দলটি। ক্যাম্প ফোর আর সামিটের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় অন্য আরেকটি অভিযাত্রী দলের দুই পর্বতারোহী মিংমা ডেভিড শেরপা এবং নির্মল পুর্জার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন গাইড গেশমান তামাং এবং দাওয়া শেরপা। ১৪ মে দুপুর ১১টার সময় তাঁরা কাঞ্জনজঙ্ঘা বেসক্যাম্পে এসে পৌঁছন। সেদিন রাত ১টাতেই তাঁরা সরাসরি কাঞ্জনজঙ্ঘা শিখরের উদ্দেশে রওনা দেন। টানা দশ ঘণ্টা ‘ক্লাইম্ব’ করার পর সকাল ১১টা ১৯ মিনিটে তাঁরা পৌঁছে যান কাঞ্জনজঙ্ঘা শিখরে। সেখান থেকে নামার সময়েই তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় কুন্তল আর বিপ্লবের
নির্মলের কথায়, ‘‘শিখর থেকে নামার সময় ৮,৪৫০ মিটার উচ্চতায় আমি ভারতীয় পর্বতারোহী বিপ্লব আর ওঁর গাইডকে দেখতে পাই। ওঁদের দু’জনেরই অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছিল। ওঁদের তখনই উদ্ধার করার প্রয়োজন ছিল। আমাদের অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে শুরু করে দিই উদ্ধার অভিযান। একই সঙ্গে ক্যাম্প ফোরে অক্সিজেন আর উদ্ধারকারী দল পাঠানোর বার্তা পাঠাই।’’
অসুস্থ বিপ্লবকে নিয়ে ১৫০ মিটার নামার পর কুন্তল কাঁড়ারের সঙ্গে দেখা হয় নির্মল আর তাঁর সঙ্গে থাকা দলের। কিন্তু নির্মলের অভিযোগ, অসুস্থ কুন্তলকে ছেড়ে সবাই চলে গিয়েছিলেন । তাঁর আরও দাবি, ‘‘কুন্তলের সঙ্গে ওঁর গাইডও ছিল না। ও খুবই অসুস্থ অবস্থায় একদম একা পড়ে ছিল। আমি কুন্তলকে আমার নিজের অক্সিজেন দিয়ে দিই। ফের শুরু করি উদ্ধার অভিযান। কিন্তু কয়েক মিটার নামার পর আমার গাইড গেশমানও ওঁর অক্সিজেন দিয়ে দেয় বিপ্লবকে। দুপুর আড়াইটের সময় আমাদের দলের কাছে কোনও অক্সিজেন ছিল না। সবই দিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিপ্লব আর কুন্তলকে।’
৮,৪০০ মিটার উচ্চতায় নিজেদের জীবন্ন বিপন্ন করে উদ্ধারকার্য চালানোর পাশাপাশি প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর নিচের ক্যাম্পে রেডিয়ো বার্তা পাঠাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন নির্মল। প্রতি বারই বলা হচ্ছিল নীচ থেকে তিন জনের শেরপার একটি দল তাঁদের সাহায্য করতে পাঠানো হচ্ছে। সেই ভরসাতেই তাঁরা নিজেদের অক্সিজেন বিপ্লব আর কুন্তলকে দিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন নির্মল। কিন্তু কোনও সাহায্য না আসাতে সবার জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছিল। কারণ ৮,০০০ মিটারের উচ্চতায় অক্সিজেন ছাড়া বেশিক্ষণ কাটানো মানেই নিশ্চিত মৃত্যু, এমনটাই নিয়ম পর্বতারোহণের।
নির্মলের কথায়, ‘‘আমি বুঝতে পারি অক্সিজেন ছাড়া থাকার জন্য আমার গাইড গেশম্যান উচ্চতা জনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাই ওঁকে আমি অপেক্ষা না করে নীচে নেমে যেতে বলি। এই সময়ই চোখের সামনে মারা যায় কুন্তল। ওকে বাঁচানোর জন্য একটু অতিরিক্ত অক্সিজেন ছিল না কারও কাছে।’’
প্রায় বাধ্য হয়েই মৃত কুন্তলকে ওখানে রেখেই অসুস্থ বিপ্লবকে নিয়ে নীচে নামতে শুরু করেন নির্মল। দুপুর গড়ালেই পাহাড় হয়ে ওঠে বিপদসঙ্কুল। সেই কারণে বিপদ আরও বাড়ছিল। নির্মল বলছেন, ‘‘আমার দেখা সব থেকে শক্তিশালী শেরপা মিংমাও অতি উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে এই সময়। ওঁকে নিয়ে নীচে নামার জন্যও কোনও সাহায্য এল না। ওঁকে নিয়ে আমার উদ্বেগ ছিল। আরও একটা মৃত্যু আসুক, তা কোনও ভাবেই চাইছিলাম না। এর পরই দাওয়া আর আমি মিলে ওঁকে নিয়ে নীচে নামতে থাকি। তখন আমাদের কাছে এক ফোঁটা অক্সিজেন নেই।’’
নিজের দলকে নিয়ে নিরাপদে নিচে ফিরে এলেও কেন ৫০ জন পর্বতারোহী থাকলেও কেউ একটু সাহায্যের হাত বাড়ালো না, কেনই বা তিন জন শেরপা অতিরিক্ত অক্সিজেন নিয়ে উঠে এলনা প্রশ্ন তুলেছেন নির্মল। যে সংস্থা বিপ্লবদের নিয়ে গিয়েছিল, সেই ‘পিক প্রোমোশন’-এর দিকেও প্রকারান্তরে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পর্বত অভিযান হয়ত প্রতিদিনের চেনা মানুষ বা বন্ধুকে অচেনা করে দেয়।সামনেই শৃঙ্গ জয়ের হাতছানি,কষ্ট করে জোগাড় করা পাহাড়ে ওঠার খরচ এ সব কিছুই তখন অবজ্ঞা করতে শেখায় মানবিকতাকে। তাই কে অসুস্থ হল ,কার অক্সিজেন নেই তখন সবকিছু ভুলে একটাই জপমন্ত্র I will go to the top. পাহাড়ের প্রতিকূলতা বোধহয় বাধ্য করে মানুষ কে স্বার্থপর হতে।
প্রশ্ন অনেক, কিন্ত উওর কি কেউ দেবে। নাকি সব প্রশ্নের উত্তর হারিয়ে যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে ছন্দা ,বিপ্লব বা কুন্তলদের মত চিরতরে।
তবে আট হাজারের বেশি উচ্চতায় থাকা কুন্তল-বিপ্লবকে উদ্ধার করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে দোলাচলে বাংলার পর্বতারোহী মহল। পর্বতারোহী বসন্ত সিংহরায় বলছেন, ‘‘বেঁচে থাকলে উদ্ধার করাটা তুলনায় সহজ হত। কিন্তু এক্ষেত্রে দু’টি দেহ নামাতে সাত-আট জন শেরপার প্রয়োজন হয়।’’ যদিও উদ্ধারকাজ নিয়ে আয়োজক সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন পর্বতারোহী মলয় মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, ‘‘এই ওয়েদার উইন্ডোর মধ্যে ওদের (কুন্তল-বিপ্লব) নামিয়ে আনতে হবে। নইলে গোটা একটা বছর থমকে যাবে দেহ উদ্ধারের কাজ।যত সময় যাবে দেহ পাওয়ার আশা ততই তুষার শয্যার অতলে তলিয়ে যাবে।’
যদিও দেহ উদ্ধারে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার তবে কুন্তল-বিপ্লবের দেহ ক্যাম্প ফোরের উপরে থাকায় নতুন করে সেখানে শেরপা পাঠানো কতটা সম্ভব এবং আবহাওয়া কতটা অনুকূল থাকবে, সব কিছু নির্ভর করছে এই দুয়ের উপর।
কুন্তল এবং বিপ্লবের দেহ উদ্ধার অভিযান আর একবার উস্কে দিয়েছে ছন্দা গায়েনের স্মৃতি। ২০১৪ সালের ২০ মে কাঞ্চনজঙ্ঘার প্রধান শৃঙ্গ জয়ের পরে ইয়ালুংখাংয়ের পথে পা বাড়িয়ে বিপদে পড়েছিলেন পর্বতারোহী ছন্দা গায়েন। দুই শেরপাকে নিয়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। উদ্ধার করা যায়নি তার দেহ।
কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যু হল বিপ্লব এবং কুন্তলের? এজেন্সির দেওয়া তথ্য কিন্তু মিলছেনা ঐ দিন কাঞ্চনজঙ্ঘা সামিট করা আরেক অভিযাত্রী নির্মল পুর্জার বয়ানে। কাঞ্চনজঙ্ঘা সফল ভাবে সামিট করে নেমে এসে সেদিনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন নির্মল। তাঁর আক্ষেপ, ‘‘সেদিন কাঞ্জনজঙ্ঘায় বিভিন্ন অভিযাত্রী দলের অন্তত ৫০ জন ছিলেন। কেউ একটু সাহায্য করলে কুন্তল-বিপ্লবকে হয়তো বাঁচানো যেত।’’কুন্তলদের সংস্থার বিরুদ্ধে ও তার প্রচ্ছন্ন অভিযোগ রয়েছে।
নির্মলের বয়ান অনুযায়ী গত ১৫ মে, অর্থাৎবুধবার সকালেই ক্যাম্প ফোর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা শিখরের উদ্দেশে পা বাড়িয়েছিল বাঙালি অভিযাত্রী দলটি। ক্যাম্প ফোর আর সামিটের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় অন্য আরেকটি অভিযাত্রী দলের দুই পর্বতারোহী মিংমা ডেভিড শেরপা এবং নির্মল পুর্জার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন গাইড গেশমান তামাং এবং দাওয়া শেরপা। ১৪ মে দুপুর ১১টার সময় তাঁরা কাঞ্জনজঙ্ঘা বেসক্যাম্পে এসে পৌঁছন। সেদিন রাত ১টাতেই তাঁরা সরাসরি কাঞ্জনজঙ্ঘা শিখরের উদ্দেশে রওনা দেন। টানা দশ ঘণ্টা ‘ক্লাইম্ব’ করার পর সকাল ১১টা ১৯ মিনিটে তাঁরা পৌঁছে যান কাঞ্জনজঙ্ঘা শিখরে। সেখান থেকে নামার সময়েই তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় কুন্তল আর বিপ্লবের
নির্মলের কথায়, ‘‘শিখর থেকে নামার সময় ৮,৪৫০ মিটার উচ্চতায় আমি ভারতীয় পর্বতারোহী বিপ্লব আর ওঁর গাইডকে দেখতে পাই। ওঁদের দু’জনেরই অক্সিজেন শেষ হয়ে গিয়েছিল। ওঁদের তখনই উদ্ধার করার প্রয়োজন ছিল। আমাদের অতিরিক্ত অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে শুরু করে দিই উদ্ধার অভিযান। একই সঙ্গে ক্যাম্প ফোরে অক্সিজেন আর উদ্ধারকারী দল পাঠানোর বার্তা পাঠাই।’’
অসুস্থ বিপ্লবকে নিয়ে ১৫০ মিটার নামার পর কুন্তল কাঁড়ারের সঙ্গে দেখা হয় নির্মল আর তাঁর সঙ্গে থাকা দলের। কিন্তু নির্মলের অভিযোগ, অসুস্থ কুন্তলকে ছেড়ে সবাই চলে গিয়েছিলেন । তাঁর আরও দাবি, ‘‘কুন্তলের সঙ্গে ওঁর গাইডও ছিল না। ও খুবই অসুস্থ অবস্থায় একদম একা পড়ে ছিল। আমি কুন্তলকে আমার নিজের অক্সিজেন দিয়ে দিই। ফের শুরু করি উদ্ধার অভিযান। কিন্তু কয়েক মিটার নামার পর আমার গাইড গেশমানও ওঁর অক্সিজেন দিয়ে দেয় বিপ্লবকে। দুপুর আড়াইটের সময় আমাদের দলের কাছে কোনও অক্সিজেন ছিল না। সবই দিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিপ্লব আর কুন্তলকে।’
৮,৪০০ মিটার উচ্চতায় নিজেদের জীবন্ন বিপন্ন করে উদ্ধারকার্য চালানোর পাশাপাশি প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর নিচের ক্যাম্পে রেডিয়ো বার্তা পাঠাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন নির্মল। প্রতি বারই বলা হচ্ছিল নীচ থেকে তিন জনের শেরপার একটি দল তাঁদের সাহায্য করতে পাঠানো হচ্ছে। সেই ভরসাতেই তাঁরা নিজেদের অক্সিজেন বিপ্লব আর কুন্তলকে দিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন নির্মল। কিন্তু কোনও সাহায্য না আসাতে সবার জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছিল। কারণ ৮,০০০ মিটারের উচ্চতায় অক্সিজেন ছাড়া বেশিক্ষণ কাটানো মানেই নিশ্চিত মৃত্যু, এমনটাই নিয়ম পর্বতারোহণের।
নির্মলের কথায়, ‘‘আমি বুঝতে পারি অক্সিজেন ছাড়া থাকার জন্য আমার গাইড গেশম্যান উচ্চতা জনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তাই ওঁকে আমি অপেক্ষা না করে নীচে নেমে যেতে বলি। এই সময়ই চোখের সামনে মারা যায় কুন্তল। ওকে বাঁচানোর জন্য একটু অতিরিক্ত অক্সিজেন ছিল না কারও কাছে।’’
প্রায় বাধ্য হয়েই মৃত কুন্তলকে ওখানে রেখেই অসুস্থ বিপ্লবকে নিয়ে নীচে নামতে শুরু করেন নির্মল। দুপুর গড়ালেই পাহাড় হয়ে ওঠে বিপদসঙ্কুল। সেই কারণে বিপদ আরও বাড়ছিল। নির্মল বলছেন, ‘‘আমার দেখা সব থেকে শক্তিশালী শেরপা মিংমাও অতি উচ্চতাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে এই সময়। ওঁকে নিয়ে নীচে নামার জন্যও কোনও সাহায্য এল না। ওঁকে নিয়ে আমার উদ্বেগ ছিল। আরও একটা মৃত্যু আসুক, তা কোনও ভাবেই চাইছিলাম না। এর পরই দাওয়া আর আমি মিলে ওঁকে নিয়ে নীচে নামতে থাকি। তখন আমাদের কাছে এক ফোঁটা অক্সিজেন নেই।’’
নিজের দলকে নিয়ে নিরাপদে নিচে ফিরে এলেও কেন ৫০ জন পর্বতারোহী থাকলেও কেউ একটু সাহায্যের হাত বাড়ালো না, কেনই বা তিন জন শেরপা অতিরিক্ত অক্সিজেন নিয়ে উঠে এলনা প্রশ্ন তুলেছেন নির্মল। যে সংস্থা বিপ্লবদের নিয়ে গিয়েছিল, সেই ‘পিক প্রোমোশন’-এর দিকেও প্রকারান্তরে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পর্বত অভিযান হয়ত প্রতিদিনের চেনা মানুষ বা বন্ধুকে অচেনা করে দেয়।সামনেই শৃঙ্গ জয়ের হাতছানি,কষ্ট করে জোগাড় করা পাহাড়ে ওঠার খরচ এ সব কিছুই তখন অবজ্ঞা করতে শেখায় মানবিকতাকে। তাই কে অসুস্থ হল ,কার অক্সিজেন নেই তখন সবকিছু ভুলে একটাই জপমন্ত্র I will go to the top. পাহাড়ের প্রতিকূলতা বোধহয় বাধ্য করে মানুষ কে স্বার্থপর হতে।
প্রশ্ন অনেক, কিন্ত উওর কি কেউ দেবে। নাকি সব প্রশ্নের উত্তর হারিয়ে যাবে কাঞ্চনজঙ্ঘার কোলে ছন্দা ,বিপ্লব বা কুন্তলদের মত চিরতরে।




No comments:
Post a Comment